তারিখ : ৩০ নভেম্বর ২০২০, সোমবার
[ ] [ ] পাঠক সংখ্যা : 1231459


                   ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি উন্মক্ত সাইড

বলিউডের প্রয়াত অভিনেত্রী জিয়া খানের আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে বলেই দাবি করলেন তাঁর মা

প্রকাশকাল : ২৬/১০/২০১৩ ৩:০০:০০ প্রকাশক : এস,আই,জিন্নাহ পাঠক সংখ্যা : 1656


No Image
Close

বলিউডের প্রয়াত অভিনেত্রী জিয়া খানের আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে বলেই দাবি করলেন তাঁর মা রাবেয়া আমিন

মৃত্যুর রাতে জিয়ার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে পেরেছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।এ প্রসঙ্গে এক টুইটার বার্তায় অভিনেত্রী রাবেয়া আমিন লিখেছেন, ‘মৃত্যুর রাতে জিয়ার সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা জানার জন্য সম্প্রতি বেলগ্রেভিয়া রোডের বিখ্যাত এক তান্ত্রিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি আমি। তিনি জিয়ার আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিশ্বাস্য কিছু কথা আমায় জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে জিয়ার ব্যক্তিগত জীবন হুবহু মিলে গেছে। জিয়ার মা হিসেবে আমি সেসব তথ্য জানলেও, ওই তান্ত্রিকের মুখে তা শুনে আমি প্রচ- অবাক হয়েছি। মৃত্যুর রাতে জিয়ার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, তা-ও আমি জানতে পেরেছি।’ এক খবরে এমনটিই জানিয়েছে ওয়ান ইন্ডিয়া।

বার্তাটি দেখার পর রাবেয়ার এক টুইটার অনুসারী মৃত্যুর রাতে জিয়ার সঙ্গে কী ঘটেছিল তা ব্যাখ্যা করতে বললে রাবেয়া লেখেন, ‘প্রথমে জিয়াকে লাথি মারা হয়। এরপর পিটিয়ে তাঁকে অজ্ঞান করে ফেলা হয়। একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় জিয়াকে। পরে তাঁর হত্যাকা-ের বিষয়টি যাতে আত্মহত্যা মনে হয়, সেভাবে নাটক সাজানো হয়।’
এদিকে জিয়ার মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকা- দাবি করে ১ অক্টোবর বোম্বে উচ্চ আদালতে মামলা করেন রাবেয়া আমিন।

পুলিশের তদন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ও একপেশে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, প্রভাব খাটিয়ে সুরজ পাঞ্চোলির পক্ষে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করানো হয়েছে। পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর জন্য ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবি আই) কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেওয়ারও আবেদন জানান রাবেয়া।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি মুম্বাই পুলিশকে রাবেয়ার জবানবন্দি নথিভুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন বোম্বে উচ্চ আদালত। ২৬ অক্টোবর শনিবার জুহু পুলিশ স্টেশনে রাবেয়ার জবানবন্দি নথিভুক্ত করবে পুলিশ। এরপর নতুন করে তদন্ত কাজ শুরু হবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৩ জুন মুম্বাইয়ের জুহুতে নিজ বাসা থেকে জিয়া খানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। কয়েক দিন পর প্রেমিক সুরজ পাঞ্চোলিকে দায়ী করে জিয়ার লেখা সুইসাইড নোট খুঁজে পান তাঁর বোন। পরে সেটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন জিয়ার মা রাবেয়া আমিন। এর দুদিন পর জিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে ভারতীয় দ-বিধির ৩০৬ ধারায় সুরজকে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ। কিছুদিন জেলের চার দেয়ালে বন্দী থাকার পর জামিনে মুক্তি পান বলিউডের প্রভাবশালী ও বিতর্কিত অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সুরজ।

চলতি মাসের শুরুর দিকে জিয়া খান মৃত্যু-রহস্য নতুন মোড় নেয়। জিয়ার মৃতদেহের লোমহর্ষক কয়েকটি ছবি প্রকাশের পাশাপাশি জিয়াকে হত্যার অভিযোগে ১ অক্টোবর বোম্বে উচ্চ আদালতে মামলা করেন তাঁর মা রাবেয়া আমিন। মামলার অভিযোগে জিয়া খানের মৃত্যু যে আত্মহত্যা নয়, তার ১০টি কারণও উল্লেখ করেন রাবেয়া।

প্রথমত, কেউ গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করলে সাধারণত তার জিহ্বা বের হয়ে আসে। কিন্তু জিয়ার ক্ষেত্রে তেমনটা ঘটেনি। দ্বিতীয়ত, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করলে মৃত ব্যক্তির গলায় যে ধরনের দাগ দেখা যায়, জিয়ার গলায় সে ধরনের দাগ দেখা যায়নি। তৃতীয়ত, জিয়ার গলায় যে দাগ দেখা গেছে তা কোনোভাবেই ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যাকারীর গলার দাগের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

চতুর্থ কারণ হিসেবে রাবেয়া উল্লেখ করেন, মৃত্যুর পর জিয়ার ঠোঁটের ডান পাশে ও বাম হাতের কবজিতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটা দেখে মনে হয়েছে, কেউ তাঁকে শক্ত করে জাপটে ধরেছিল। পরের কারণটি আরও ভয়াবহ। যে ঘর থেকে জিয়ার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তার পাশের ঘরে জমাট বাঁধা রক্ত খুঁজে পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন রাবেয়া। ওই জমাট বাঁধা রক্ত সংরক্ষণ করে রেখেছেন বলেও জানান তিনি।

ষষ্ঠ কারণ হিসেবে রাবেয়া উল্লেখ করেন, গলায় পাতলা মসলিন কাপড়ের ওড়না পেঁচিয়ে জিয়া আত্মহত্যা করেছেন বলা হলেও, তাঁর গলার দাগের গভীরতা অনেক বেশি। মসলিন কাপড়ের মতো পাতলা কোনো বস্তু কোনোভাবেই এমন গভীর দাগ সৃষ্টি করতে পারে না। রাবেয়া আরও দাবি করেন, টুল বা উঁচু কোনো কিছুর ওপর না দাঁড়িয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগানো সম্ভব নয়। কিন্তু সিলিং ফ্যান ছোঁয়ার জন্য দাঁড়ানোর মতো উঁচু কোনো বস্তুই নেই তাঁদের বাসায়।
অষ্টম কারণ হিসেবে রাবেয়া জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে বাসায় ঢোকার সময় জিয়ার পরনে ছিল ট্র্যাকস্যুট। কিন্তু রাতের পোশাক পরা অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মহত্যা করার আগ মুহূর্তে কেউ পোশাক পরিবর্তন করবে, এটা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। রাবেয়া আরও দাবি করেন, তিনি জিয়ার মৃত্যুর সব আলামত তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। কিন্তু সেসব আলামত যাচাইয়ে কোনো রকম গুরুত্বই দেওয়া হয়নি।

সব শেষে রাবেয়া উল্লেখ করেন, অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের দ্বিতীয় তলায় তাঁদের ফ্ল্যাট। হত্যাকারীরা বেডরুমের জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে থাকতে পারে। কারণ, অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের প্রবেশপথের ওপরই একটি কার্নিশ আছে। সেই কার্নিশ বেয়ে খুব সহজেই জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর প্রবেশ করা সম্ভব। হ্যালো 

          

মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

আপনি কি মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক ছারা দেশে সর্বজন স্বীকৃত- গ্রহন যোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব ?

ভোট দিয়েছেন ২৭ জন

পুরোনো ফলাফল দেখুন

বিজ্ঞাপন