তারিখ : ৩০ নভেম্বর ২০২০, সোমবার
[ ] [ ] পাঠক সংখ্যা : 1231419


                   ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি উন্মক্ত সাইড

দিল্লীতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সরকার নিয়ে ভারত মার্কিন ষড়যন্ত্র

প্রকাশকাল : ২৭/১০/২০১৩ ১১:৩০:০০ প্রকাশক : এস,আই,জিন্নাহ পাঠক সংখ্যা : 1630


No Image
Close
দিল্লীতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সরকার নিয়ে ভারত মার্কিন ষড়যন্ত্র
বাংলাদেশের ভাগ্য কি নির্ধারিত হবে দিল্লীতে? নাকি ঢাকায়? বাংলাদেশের রাজনীতি কোন পথে যাবে, সেটি কি নির্ধারণ করবে দিল্লী? নাকি ঢাকা? কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে, নির্বাচনকালে কোন পদ্ধতির সরকার থাকবে, এগুলো কে নির্ধারণ করবে? বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ? নাকি মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং দিল্লীর সাউথ ব্লক? বাংলাদেশের জনগণ গভীর পরিতাপ এবং উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছেন যে, দিল্লী এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত যৌথভাবে নির্ধারণ করতে যাচ্ছেন আগামীতে কাদেরকে ক্ষমতায় আনা হবে এবং কোন পদ্ধতিতে তাদেরকে ক্ষমতায় আনা হবে।
মজিনার দিল্লী গমন

বাংলাদেশের এক শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি খবরে বাংলাদেশের রাজনীতি সচেতন, শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে এসব উদ্বেগজনক প্রশ্নের উদয় হয়েছে। এসব খবরের উৎস হল ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনার সাম্প্রতিক কর্মকা-। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, গত সপ্তাহে মজিনা ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরণের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন। এই বৈঠকের পর দিনই তিনি দিল্লী গমন করেন। দিল্লী থেকে এক দিন পর অর্থাৎ শুক্রবার তার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার দিল্লী সফর বর্ধিত করে গতকাল শনিবার তিনি ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন। মানুষ অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করে যে, মজিনার দিল্লী সফরের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয় যে, দিল্লীর সাউথ ব্লকের (ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশীয় বিষয়) সাথে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা। মানুষের মনে এ প্রশ্নে প্রবলভাবে আন্দোলিত হয় যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় বা মার্কিনীরা আলোচনা করবে কেন? এটি তো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে সরাসরি হস্তক্ষেপ। দ্বিতীয়ত, সেই আলোচনাটিও ঢাকার মাটিতে না হয়ে দিল্লীর মাটিতে হবে কেন? দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশেই ভারত বা আমেরিকার রাষ্ট্রদূত রয়েছে। দিল্লীতেও রয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ঐ রাষ্ট্রদূত ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবেন। কিন্তু তিনি তা না করে যখন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত দিল্লী উড়ে যান এবং সেখানে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের সাথে বাংলাদেশ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তখনই রাজ্যের যত প্রশ্ন ওঠে।
নির্বাচনী সরকার নিয়ে কথা
বলার ওরা কারা?

গতকাল ‘দৈনিক ইনকিলাব’ সহ একাধিক পত্রিকার খবরে প্রকাশ, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত প্রকাশ করেছে ভারত। গত শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐ বৈঠকে এই মত প্রকাশ করা হয়। খবরে জানা যায় যে, মজিনাও নাকি এ ব্যাপারে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সাথে এক মত প্রকাশ করেছেন। খবরে আরও বলা হয় যে, দিল্লীর সাউথ ব্লকে গত শুক্রবার ড্যান মজিনা ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংহ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব হর্ষ সিংলার সাথে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বর্তমান পরিস্থিতি এবং আসন্ন সাধারণ নির্বাচন নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে ভারত তাদের নীতি অনুসারে নির্বাচিত সরকারের অধীনেই বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত প্রকাশ করেন। সূত্র আরো জানায়, ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেহেতু তাদের দেশে নির্বাচিত সরকারের অধীনেই নির্বাচন হয়, তাই তারা কোন অনির্বাচিত সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনের পক্ষে মত দিতে পারেন না। আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্থাপিত সর্বদলীয় নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাবকে ইতিবাচক বলে মত প্রকাশ করা হয়।
মজিনার প্রত্যাবর্তন : এরশাদ
ও দিপু মনির দিল্লী গমন

গত শনিবার ২ দিনের জায়গায় ৩ দিনের সফর শেষ করে মজিনা ঢাকায় ফিরে এসেছেন। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে এরশাদও দিল্লী যাচ্ছেন বলে খবর বেরিয়েছে। আরও খবর বেরিয়েছে যে, নভেম্বরের ২য় সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনিও দিল্লী যাচ্ছেন। এদের দিল্লীর সফরের উদ্দেশ্য প্রকাশ্যে যাই বলা হোক না কেন, বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য অতি সম্প্রতি দিল্লী ‘কাশিম বাজারের কুঠিতে’ পরিণত হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন।
ফিরে দেখা

আজ ভারত বলছে যে, যেহেতু তাদের দেশে নির্বাচিত সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাই তারা বাংলাদেশে অনির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান সমর্থন করে কিভাবে? কিন্তু ২০০৬ এবং ২০০৭ সালে কি এ কথা ভারতের স্মরণে ছিল না? তখন বেগম জিয়া নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সে দিন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস এবং ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরী কেয়ার টেকার সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগের সাথে জান কোরবান করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া যে ফর্মূলা দিয়েছেন সেই ফর্মূলায় বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ মানুষের জনমতের প্রতিধ্বনি ঘটেছে। ভারত এবং আমেরিকা যদি গণতন্ত্রের এত বড় উপাসক হয় তাহলে তাদের উচিত বেগম জিয়ার ফর্মূলাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করা।
আওয়ামী লীগের
দুই চেহারা

বেগম খালেদা জিয়ার নামে ওয়াশিংটন টাইমসের মতামত কলামে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সম্পর্কে একটি নিবন্ধ ছাপা হয়েছিল। এই নিয়ে আওয়ামী লীগ চায়ের পেয়ালায় ঝড় তুলেছিল। এছাড়া ড. ইউনূস সম্পর্কে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটনের বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী সরকার হৈ চৈ বাধিয়েছিল। বলেছিল যে আমেরিকা নাকি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নির্লজ্জভাবে হস্তক্ষেপ করছে। আজ যখন ভারত এবং আমেরিকা যৌথভাবে দিল্লীর মাটিতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সলা-পরামর্শ করছে তখন আওয়ামী লীগ খামোশ কেন? দিল্লীর সলা-পরামর্শ তাদের পক্ষে যাচ্ছে সেজন্যই কি তারা নীরব?
ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে
মেঘ দেখলে ভয় পায়

২০১১ সালের ১৫ই জানুয়ারি বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকায় এই মর্মে খবর প্রকাশিত হয় যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিন্টন গত ১৪ই জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেছিলেন। তারপরদিন অর্থাৎ ১৬ই জানুয়ারি ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেকে পেয়ে যান দুই নেত্রীর টেলিফোন সংলাপের বিবরণ। ঐ সংলাপের অংশবিশেষ নিচে ছাপা হলো।   
গত ২রা ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি বাংলা দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ ভাষ্য মোতাবেক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিন্টন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন,

ÒMadame Prime Minister, I thought I would not have to go that far. But, unfortunately, I was wrong. I hope you know as much we know, how your government came to power. Don’t forget that we helped you by congratulating you after the election terming it as a free and fair. You know Prime Minister, how this election result was pre-arranged at the behest of our good friends in New Delhi. We acted the way they suggested us. And please don’t forget that Gen. Moeen, who brought you to power, now in the USA and perhaps, we now know, more than you could possibly imagine. Prime Minister, I am not saying that we will disown you so soon. I am just trying to place issues in the order of history demands it.
Prime Minister said, Madame Secretary, please bring President Clinton and your daughter and son in law. Hilary hangs up on the other side.

বঙ্গানুবাদ: এরপর হিলারী বলেন, “ম্যাডাম প্রাইম মিনিস্টার, আমি ভেবেছিলাম আমাকে এত দূরে যেতে হবে না। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, আমি ভুল ভেবেছিলাম। আপনি জানেন এবং আমরাও জানি কিভাবে আপনার সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ভুলে যাবেন না, নির্বাচনের পর আমরা বলেছিলাম, সেটা অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে এবং আপনাকে সাহায্য করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী, আপনি জানেন, দিল্লিতে আমাদের বন্ধুদের নির্দেশে কিভাবে ফলাফল আগেই ঠিক করা হয়েছিলো। তারা যেভাবে চেয়েছিল সেভাবেই আমরা চলেছিলাম। প্লিজ, আপনি এটা ভুলে যাবেন না যে, জেনারেল মইন, যিনি আপনাকে ক্ষমতায় এনেছিলেন, তিনি এখন আমেরিকাতে আছেন এবং আপনি যতখানি কল্পনা করতে পারেন, তার চেয়েও বেশি এখন আমরা জানি। আমি বলছিনা যে, আমরা এখনই আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যাব। আমি শুধু ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরছি।

হিলারীর এই কড়া কথায় হাসিনা দ্রুত প্রসঙ্গ পাল্টানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “আমরা আপনার সমর্থন ও সাহায্য বিষয়ে জানি। আপনাকে খুশি রাখার চেষ্টা করব। দুশ্চিন্তা করবেন না। আপনার কথাগুলো মনে রাখব। এখন বলুন, কবে আমাদের দেশ সফর করতে আসবেন।”
তাদের এই টেলিফোন সংলাপের বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।

লেখক: মোবায়েদুর রহমান
Email: journalist15@gmail.com 
(ইনকিলাবে প্রকাশিত)






মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

আপনি কি মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক ছারা দেশে সর্বজন স্বীকৃত- গ্রহন যোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব ?

ভোট দিয়েছেন ২৭ জন

পুরোনো ফলাফল দেখুন

বিজ্ঞাপন