তারিখ : ৩০ নভেম্বর ২০২০, সোমবার
[ ] [ ] পাঠক সংখ্যা : 1231394


                   ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি উন্মক্ত সাইড

হরতালের নৃশংসতা থেকে রক্ষা করুন

প্রকাশকাল : ৬/১১/২০১৩ ৭:০০:০০ প্রকাশক : এস,আই,জিন্নাহ পাঠক সংখ্যা : 1515


No Image
Close

হরতালের নৃশংসতা থেকে রক্ষা করুন

 ১৯৯৯ সালের মে মাসে মাননীয় হাইকোর্ট হরতালকে একটি সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন, তবে একই সঙ্গে বলেন, জবরদস্তিমূলকভাবে হরতাল চাপিয়ে দেওয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ২০০৭ সালে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই রায়ের প্রথম অংশ বহাল রাখেন, কিন্তু দ্বিতীয় অংশটি খারিজ করে দেন। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এ রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এটিকে হরতালের প্রাক্কালে ও হরতাল চলাকালে যা ইচ্ছে তাই করার অবাধ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। তারই ফল কিশোর মনির ও শিশু সুমিসহ গত কয়েক দিনে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু, অগ্নিদগ্ধ হওয়া ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারানো। গত কয়েক বছরের হিসাব নিলে হরতালে মানুষের প্রাণহানির সংখ্যা হাজার পেরিয়ে যাবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনির ও সুমির বিষয়ে দায়ী করেছেন সরকারকে। তাঁর যুক্তি যেমন সরল তেমনই বিবেকবর্জিত: বিএনপি ও তার শরিকেরা একটা দাবি তুলেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে দাবি পূরণ করা হচ্ছে ততক্ষণ মনির ও সুমিদের পুড়িয়ে মারার স্বাধীনতা তাদের আছে। দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন দূরে থাক, কোনো নিয়মশৃঙ্খলা, শব্দপ্রয়োগে সতর্কতা বা তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের নিরস্ত করারও কোনো বালাই নেই! কোনো অনুশোচনা নেই, সহানুভূতিসূচক একটি শব্দও নেই; কচি প্রাণগুলোর জন্য উদ্বেগের লেশমাত্র নেই! তিনি একবাক্যে বলে দিলেন, ‘সরকার দায়ী’! আমরা মির্জা ফখরুলকে শুধু একটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে চাই, যাদের জ্বালানো আগুনে মনির ও সুমি দগ্ধ হয়েছে, তাদের প্রতি আপনি কী বার্তা পাঠালেন? যে নৃশংস কাজ তারা করেছে, সেটার পুনরাবৃত্তি করার সবুজ সংকেতই তারা পেল না? এই ধারার রাজনীতিই কি আপনারা চান? এই রাজনীতির মধ্যে কি আপনারা দেশ পরিচালনা করতে পারবেন, যদি ক্ষমতায় আসেন? এখন বিএনপি ক্রুদ্ধভাবে বলবে, যেন এর আগে কেউ হরতালে মারা যায়নি বা অগ্নিদগ্ধ হয়নি! আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকার সময় তাদের দ্বারা সংঘটিত এ ধরনের অসংখ্য ঘটনার উদাহরণ তারা হাজির করবে। সত্য কথা যে তারা সে রকম অজস্র উদাহরণ খুঁজে পাবে।
এভাবে এক পক্ষের অন্যায়-অপরাধের দৃষ্টান্ত দিয়ে অপর পক্ষ একই অন্যায়-অপরাধের সাফাই গেয়ে চলবে, এক হত্যাকাণ্ডের জায়গা নেবে আরেক হত্যাকাণ্ড। বদলাবে শুধু তাদের পরিচয়। এই দোষারোপের খেলা চলতেই থাকবে এবং প্রায় একইভাবে আমরাও আমাদের শাসক বেছে নিতে এই দল বা ওই দলকে ‘ভোট’ দেওয়ার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে নিজেদের ধ্বংস করে চলব।
আমরা নিশ্চিত, আমাদের বিচারকেরা যখন হরতালকে ‘সাংবিধানিক অধিকার’ হিসেবে ঘোষণা করেন, তখন এ ধরনের হরতালের কথা তাঁরা ভাবেননি। আবেদন, তাঁরা যেন এ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন। বিচারকেরা প্রশ্ন তুলতে পারেন, হরতাল ডাকার ‘সাংবিধানিক অধিকার’ ভোগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতা কী? যেকোনো সভ্য সমাজে প্রতিটি অধিকারের সঙ্গে থাকে সমমাত্রার দায়িত্বশীলতা। তাহলে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর ‘সাংবিধানিক অধিকার’ ভোগের পাশাপাশি তাদের দায়িত্বশীলতা কী? ‘সরকার দায়ী’—শুধু এইটুকু ?

এসব বিষয় বিভিন্ন আদালতের দেওয়া রায়গুলোর আলোকে উচ্চ আদালতে আমাদের আবেদন:

১. রাজনৈতিক দলগুলোর হরতাল আহ্বানের ‘সাংবিধানিক অধিকার’ ভোগের ক্ষেত্রে তাদের অধিকার ও বাধ্যবাধকতার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হোক;
২. হরতালের আগের দিন যেহেতু ঘোষিত হরতালের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পড়ে না, সেহেতু হরতাল-পূর্ববর্তী সময়ে হরতাল আহ্বানকারী রাজনৈতিক দলের ‘সাংবিধানিক অধিকার’ ভোগের কোনো প্রশ্ন নেই। এ সময়ের নাগরিক অধিকারগুলো বিবেচনায় নেওয়া হোক।
৩. হরতাল আহ্বানকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে হরতাল-পূর্ববর্তী সময়ে কোনো সহিংসতা ঘটবে না। এটা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সহিংসতার দায়দায়িত্ব দলগুলোর নেতাদেরই নিতে হবে।
হরতাল কেবল ততক্ষণ পর্যন্তই গণতন্ত্রের অংশ, যতক্ষণ জনসাধারণ তাতে স্বেচ্ছায় অংশ নেয়। জোর করে হরতাল চাপিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা হয়ে যায় স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ। এই দুই পরিস্থিতিকে একইভাবে বিচার করা যায় না। হরতাল এখন শুধু জবরদস্তিমূলকই নয়, বরং তা চাপিয়ে দেওয়া হয় অত্যন্ত ভয়ংকর ও নৃশংসভাবে, যা আমরা দেখলাম কিশোর মনির ও শিশু সুমির ক্ষেত্রে। আমাদের অধিকারগুলো যখন নৃশংস ও জঘন্যভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে, তখনো কি আমাদের উদ্ধার করতে সংবিধান ও আমাদের সব মানবিক, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের রক্ষক উচ্চ আদালত এগিয়ে আসবেন না?



মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

আপনি কি মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক ছারা দেশে সর্বজন স্বীকৃত- গ্রহন যোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব ?

ভোট দিয়েছেন ২৭ জন

পুরোনো ফলাফল দেখুন

বিজ্ঞাপন