তারিখ : ৩০ নভেম্বর ২০২০, সোমবার
[ ] [ ] পাঠক সংখ্যা : 1231386


                   ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি উন্মক্ত সাইড

ভালুকায় অ-পরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠছে অসংখ বহুতল ভবন-হাজী সানি

প্রকাশকাল : ২৫/৮/২০১৪ ২:০০:০০ প্রকাশক : এস,আই,জিন্নাহ পাঠক সংখ্যা : 1896


No Image
Close
ভালুকায় অ-পরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠছে অসংখ বহুতল ভবন-হাজী সানি
উত্তরে ত্রিশাল ও ফুলবাড়িয়া উপজেলা, দক্ষিণে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা, পূর্বে গফরগাঁও উপজেলা ও পশ্চিমে টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর ও ঘাটাইল উপজেলা বেষ্টিত আমাদের ভালুকা, ৯০ দশকের পর থেকেই ভালুকায় শিল্পায়নের ছোঁয়া লেগেছে। বর্তমান ভালুকার সর্বাঙ্গেঁ শুধুই শিল্পায়ন আর শিল্পায়ন।

দ্রুত শিল্পায়নের কারনে ভালুকা আজ হারাতে বসেছে তার সবুজ-শ্যামল প্রাকৃতিক রূপ। এমনকি শিল্পায়নের ফলে ভালুকার জনসংখ্যা এখন আগের তুলনায় প্রায় দ্বীগুন। এই বিশাল জনবসতির আবাস নির্মানে উজার করা হয়েছে বনায়ন ও গাছ-পালা, পরিবেশ পরছে হুমকির মুখে! স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত শিল্পায়নের কারনে ভালুকার ঐতিহ্য তথা এ অঞ্চলের জীবন-জীবিকার অন্যতম অবলম্বন ফসলি জমিসহ সকল ডোবা-নালা,নদীতে অপরিকল্পিত শিল্প স্থাপন, শিল্পবর্জ্য ও  ভুমিদস্যুদের অগ্রাসনের মুখে হারাচ্ছে তার চিরায়ত রূপ।

এখন আর আগের মতো চোখে পড়েনা ফসলের মাঠে সবুজের ঢেউ, নদীতে সারি সারি নৌকায় জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। দখলদারের মাটি ভরাট আর পুঁজিবাদ শিল্পপতিদের কারখানার বিষাক্ত কালো বর্জ্য বদলে দিয়েছে এক মাত্র নদী বন ক্ষীরুর চিরচেনা রুপ। দখলদাররা মাটি ভরে ফসলের ক্ষেত বানানোয় ধীরে ধীরে প্রকৃতি হতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এক সময়কার জলভরা রুপালী নদী বনক্ষীরু। নদী বনক্ষীরু যেন এখন অনেকটাই মৃত। জলে নেই এখন আর সেই স্বাদ, এখন জলে শুধুই শিল্পবর্জ্যর দূষিত গন্ধ।

ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়  বনের জমিতে ঘরবাড়ী-শিল্পকারখানা নির্মাণ করে শত শত একর জমি জবর দখলের হিড়িক পরলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রশাসন একেবারেই নিরব। আর এই শিল্পকারখানার অগনিত মানুষের চাপে অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে উঠছে অসংখ্য বহুতল ভবন, আবাসন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যা ভালুকাকে আজ পরিণত করেছে এক ইট-পাথরের শহরে।

ভালুকার নগরায়নের হার দ্রুত বাড়ছে, বিশেষজ্ঞদের মতে আগামীতে ভালুকা সিটি স্টেট বা নগর রাষ্ট্রে পরিণত হবে।  কিন্তু এই নগরায়ন হচ্ছে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে। অনেক বহুতল ভবন নির্মান হচ্ছে সরকারের কোন প্রকার অনুমোদন ছারাই আবার কিছু অনুমোদন থাকলেও মানছেন না তার নিয়ম । তিন তালার ভবন হয়ে যাচ্ছে পাঁচ বা তার অধিক তালা।

ভালুকা পৌর সদরেই বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে অসংখ্য বহুতল ভবন যার নির্মান শৈলি দেখলেই বুঝা যায় এটা কোন ভাবেই সরকার অনুমোদিত নয় । নেই কোন প্রকৌশলী যার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয় বহুতল ভবন গুলিতে। ভবনগুলো দেখলেই মনে হয় এই বুঝি ধ্বশে পরবে ভবনটি। এমনি একটি বহুতল নির্মাণাধিন ভবন ভালুকা পৌর সদরের ২নং ওয়ার্ডের প্রিতম সিনেমা হল সংলগ্ন মৎস্য খাদ্য বিক্রেতা সীমা-লীমা এন্টারপ্রাইজের মালিক কাজল মিয়ার ভবনটি ।

ভালুকা ডট কম এর একজন পাঠক নাম না প্রকাশের শ্বর্তে কিছু ছবি ইমেইল করেছিল মৎস্য খাদ্য বিক্রেতা সীমা-লীমা এন্টারপ্রাইজের মালিক কাজল মিয়ার ভবনটির । ছবি গুলো দেখেই বুঝা যায় ভবনটি সম্পূর্ন অ-পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা বহুতল ভবন। কিন্তু এসব অনিয়ম দেখার যেন কেউ নেই। কর্তৃপক্ষ একেবারে নিরব।

এখন এই মূহুর্তে যদি প্রশাসন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকৌশলীদের দ্বারা এই ভবনের কাজের সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাবস্থা না নেন তবে সাভারে ভবন ধসে শ্রমিক নিহতের ঘটনার আবার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে মনে করছেন ভালুকার সচেতন মহলের অনেকেই ।

মৎস্য খাদ্য বিক্রেতা সীমা-লীমা এন্টারপ্রাইজের কাজল মিয়ার ভবনটি নিয়ে কথা বলেছিলাম ভালুকা উপজেলা প্রকৌশলী জনাব এ কে এম ফজলুল হকের সাথে তিনি ভালুকা ডট কম কে জানান , আমি নতুন বদলী হয়ে এসেছি ভালুকাতে গত ৪০/৪৫ দিন আগে, অনেক কিছু এখনও জানা হয়ে উঠেনি আমার তাই এই ভবনটি সম্পর্কে এই মূহুর্তে কোন সঠিক তথ্য জানানো সম্ভব না, তবে আমরা ভালুকা পৌরসভার অধীনে যত বহুতল ভবন আছে সবগুলোকে মনিটরিং করার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছি যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করবে। আগামীতে আশা করি আপনাকে সম্পুন্ন তথ্য দিবে পারব।

এই বিষয়ে নির্মাণাধিন ভবন মালিক সীমা-লীমা এন্টারপ্রাইজের কাজল মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি ভালুকা ডট কম কে জানান, উনার ভবনটি সম্পুন্ন ভাবে পৌরসভা থেকে বৈধ ভাবে অনুমোধীত তার কাছে এর সমস্ত প্রমানাধী আছে । ভবনটি তিনি ৫ তালার জন্যই অনুমোদন নিয়েছেন। তিনি বলেন আমার ভবনটি ২নং ওয়ার্ড কমিশনার ও প্রকৌশলী জনাব মোখলেছুর রহমান (মুকুল) এর সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কাজ পরিচালিত হচ্ছে ।

এ বিষয়ে ২নং ওয়ার্ড কমিশনার মোখলেছুর রহমান (মুকুল) এর সাথে মোবাইলে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি ।

মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

আপনি কি মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক ছারা দেশে সর্বজন স্বীকৃত- গ্রহন যোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব ?

ভোট দিয়েছেন ২৭ জন

পুরোনো ফলাফল দেখুন

বিজ্ঞাপন