তারিখ : ২৮ নভেম্বর ২০২০, শনিবার
[ ] [ ] পাঠক সংখ্যা : 1229325


                   ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি উন্মক্ত সাইড

সৌদি প্রবাসীদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ও তার যন্ত্রনা - হাজী সানি

প্রকাশকাল : ২০/৯/২০১৫ ৯:৪৫:০০ প্রকাশক : ভালুকা ডট কম পাঠক সংখ্যা : 1705


No Image
Close
সৌদি প্রবাসীদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ও তার যন্ত্রনা - হাজী সানি
মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা এমআরপি  হচ্ছে এমন একটি পাসপোর্ট যাতে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য জলছাপের মাধ্যমে ছবির নিচে লুক্বায়িত থাকে এবং একই সঙ্গে এতে থাকে একটি “মেশিন রিডেবল জোন(MRZ)” যা পাসপোর্ট বহনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, বিবরণী ধারণ করে। MRZ লাইনে লুকায়িত তথ্য শুধুমাত্র নির্দিষ্ট  মেশিনের মাধ্যমে পড়া যায় ফলে ভ্রমণ ডকুমেন্ট এর নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায় এবং MRZ লাইন দ্রুততম সময়ে পড়া যায় ফলে বহিরাগমনে প্রক্রিয়াকরণ সময় কম লাগে। এমআরপি কম্পিউটার এ মুদ্রিত। 

কিভাবে করবেন এমআরপি ?
প্রথমে এমআরপি ফরম সংগ্রহ করতে হবে। আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে অথবা বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এর ওয়েবসাইট  থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করুন।অথবা online এ আবেদন করুন ।আবেদন ফরম পূরণ করার আগে আবেদনপত্রে উল্লিখিত নির্দেশাবলী ভালভাবে পড়ুন। নির্দেশাবলী   অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র/দলিলপত্রাদি  সংযুক্ত করুন।ব্যাংকে পাসপোর্টের নির্ধারিত ফি প্রদান করে ব্যাংক ভাউচার আবেদন ফরম এর সঙ্গে সংযুক্ত করুন।পূরণকৃত ফরম সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে উপস্হিত হয়ে জমা দিন। এই তথ্য গুলো বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাইডে দেয়া আছে ।

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট কেন ?
পাসপোর্ট বিদেশ যাওয়ার অপরিহার্য অনুষঙ্গ।বৈধভাবে পৃথিবীর যে কোন দেশে যেতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির একটি পাসপোর্ট প্রয়োজন। এটি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতিরও বড় দলিল।জাতীয় পরিচয়পত্র বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে অন্যতম জোরালো প্রমাণপত্র।কিন্তু দেশের গন্ডি পেরোলেই এ পরিচয়পত্র প্রায় অচল।সেখানে কেবল পাসপোর্টই ব্যাক্তির হয়ে স্বাক্ষ্য দিতে পারে।প্রমাণ করতে পারে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। তাই শুধু বিদেশ যাওয়া নয়, মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতির জন্যও প্রত্যেক নাগরিকেরই পাসপোর্ট থাকা উচিত। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যারা সৌদি প্রবাসে আছি তাদেরতো পাসপোর্ট আছেই তবে কেন এই মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ।

সৌদি কর্তপক্ষের বেধে দেয়া সময় অনুযায়ী নভেম্বর শেষ পর্যন্ত কোন দেশেরই হাতের লেখা পোরাতন পাসপোর্টে (residence permit) যা এখান কার ভাষাই বলা হয় আকামা তা নতুন বা নবায়ন করা যাবেনা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ছারা যা এই সৌদি বর্তপক্ষ বেশ কয় বছর পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছিল । যার মধ্যে মিশর,ভারত,পাকিস্তান,এবং অন্য যে সকল দেশের অধিবাসীরা সৌদিতে অবস্থান করছেন । 

আমাদের বাংলাদেশের তোলনায় অর্থনিতীক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা নেপালও গত দুই বছর পূর্বে তাদের অধিবাসীদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রধান করেছে সব শেষ যখন আমাদের সরকারের টনক নড়ছেনা দেখে সৌদি কতৃপক্ষ এক মত সময় সীমা বেধে দিয়েছে নভেম্বরের মধ্যে হয় মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট করেন না হয় আপনার অধিবাসীদের ফেরত নিতে হবে তখন সৌদি আরব রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের কতৃপক্ষের ঘুম ভাঙ্গে আর এক বিজ্ঞাপন জারি করেন যে নভেম্বর ২০১৫ইং এর মধ্যে সকল প্রবাসীকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট করতে হবে অন্যথায় (residence permit) আকামা হবে না ।

মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের যন্ত্রনা :
মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের প্রথম যন্ত্রনা আবেদন পত্রটি অনলাইনে পুরণ করার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস যে সাইডটি দিয়েছেন তা সঠিক ভাবে সব সময় কাজ করে না (বর্তমানে একটু ভাল) সৌদি আরব বাংলাদেশ দূতাবাসের পাসপোর্ট বিভাগে জনবল সংকট,প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব, এবং সর্বপরি দূতাবাসের কর্মকর্তদের সততার অভাবে ।মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের কাজ করতে আসা রিয়াদ ও আশে পাশের শহরের হাজারও প্রবাসী বাংলাদেশীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে বর্তমানে সৌদি কতৃপক্ষের বেধে দেয়া সময়ে কাজ সম্পুন্ন না হওয়ার ভয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদির কিছু অন্য শহরেও তাদের কিছু অসত অকর্মণ্য কর্মকর্তাদের দিয়ে মোবাইল টিম পরিচালনা করছে আর এমন একটি টিমের সাথেই হল আমার পরিচয় কারন আমি হাজী সানি অনেক খেটে খাওয়া প্রবাসীদের মধ্যকারই একজন সাধারন খেটে খাওয়া প্রবাসী আর জীবন জীবিকার তাগিদে সৌদিতে থাকতে হলে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট লাগবেই তাই অপেক্ষা করছিলাম আমার কর্ম স্থল হাফার আল বাতেনে কোন দিন আসবেন সেই মহা পুরুষরা যাদের নাম বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা । 

প্রতিক্ষার প্রহর শেষ হল ১৩ মার্চ শুক্রবার ২০১৫ইং হাফার আল বাতেন আসলেন সেই মহা পুরুষগন আমি পৌঁলাম নির্ধারিত স্থানে সকাল ৬টা ২০মিনিটের সময় যে খানে এর আগেই স্থানটি কানায় কানায় পরি পূর্ন হয়ে আছে বাংলাদেশী প্রবাসী ভাই-বোনদের পথচারনায় । চার দিকের আবাহাওয়া প্রচন্ড খারাপ বালির ঝড় হচ্ছে যাদের দেখা যাচ্ছিল দাঁড়িয়ে আছে তাদের প্রায় সবাইকে লাল বালিতে আচ্ছন এক মুর্তির মত লাগছিল যাই হোক কি আর করার মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট লাগবেই যদি পরিবারের চিন্তা করতে হয় তাই মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের যন্ত্রনা উপভোগ করতে লাগলাম । 

একটা সময় আসল দেখলাম সকাল ৯টা বাজে বাজে এমন সময় সেই সব মহা পুরুষরা আসলেন যে স্থানে ভোর ৪টা থেকে উনাদের জন্য অপেক্ষমান প্রবাসী নামের কয়েক শত দিন মজুর । উনারা আসলেন প্রথমে নাস্তা করলেন তার পর বক্তিতা করলেন তার পর উনারা বসলেন অপেক্ষমান দিনমজুরদের সমস্যার সমাধানের জন্য ।"ভাবনাটা এমন ছিল তার যে আমি এক জাহান্নামী সে দিচ্ছে আমায় জান্নাতের একটু আশ্রয়" যাই হোক উনারা কাজ করা শুরু করছেন একটা স্থানে টাকা জমা নিচ্ছেন যে খানে উপচে পড়া ভিড় যে কর্তা ব্যক্তি টাকা জমা নিচ্ছে শুধু টাকা দিতে হবে কথা বলার কোন সময় নেই তাই নির্ধারিত ১৪৫ টাকা উনার হাতে দিতে হবে (যেখানে সবাই ১৫০ টাকায় দিয়েছে আমি যতটুকু দেখেছি কারন ৫ টাকা ফিরত দেয়ার উনাদের মধ্যে কোন প্রকার লক্ষন নজর আসেনি) যাই হোক শত কষ্টের পর টাকা জমা হল নাম্বার আসল আমার ৮১৪ এবার আরেক লাইন যে খানে অন্য এক কর্তা ব্যক্তি ছবি টিপ সই নিবেন তার জন্য অপেক্ষার পহর শেষ হল পরের দিন ১৪ মার্চ রাত ৮টা ২০মিনিটের সময় ।মনে মনে বললাম আলহাম্দুল্লিলাহ চলেন একটা যুদ্ধ হয়ত জয় করে ফেলছি ।

কিন্তু না তা যে আমার ভুল ধারণা ছিল তা ভাঙলো গত কাল ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ইং গতকাল আমার কর্ম স্থল হাফার আল বাতেনে আসলেন সেই মহা পুরুষরা যাদের নাম বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা , উদ্যেশ গত মার্চে যে সব আবেদন কারী রিডেবল পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন তাদের কে রিডেবল পাসপোর্ট দিবেন এবং যদি কেউ নতুন আবেদন করে তা গ্রহন করবেন । রিডেবল পাসপোর্ট এখন সৌদি প্রবাসীর জন্য সোনার হরিন আর এই হরিন কে না চয় তাই সংবাদটি পেয়ে ১১ সেপ্টেম্ভব সকাল বেলা চলে গেলাম নির্ধারিত স্থানে তখন সকাল ৮টা ২০মিনিটের মত হবে যাওয়ার কিছু সময় পরই দেখলাম উনারা কাজ শুরু করছে তবে এবার পুরতন চেহার এক দুই জন ছারা বাকীরা নতুন কিছু স্থানীয় প্রবাসীও আছে এদের সাথে যারা সাহায্য করছে কাজে , এদের কথায় পরে আসছি মূল কথাটা শেষ করে নেই ।

একটা লাইনে ঠেলা ঠেলি করছে সবাই কাছে গিয়ে জানতে পারলাম এই লাইনে দাঁড়িয়ে জমা দিতে হবে পোরাতন পাসপোর্ট তার পর দিবে নতুন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট কি আর করার আছে উনারাই সর্ব সত্তার অধিকারী উনারাই সব তাই অনেক কষ্টে ভিড় থেকে পরে হটে ১০টা ৪০ মিনিটে জমা দিলাম আমার পোরাতন পাসপোর্টটি তাও এক বাতিজার সাহায্যে (ধন্যবাদ বাতিজা) কিন্তু জানতে পারলাম না কখন পেতে পারি নতুন মেশিন রিডেবল পাসপোর্টটি । কি আর করার শুক্রবার জুমুর নামাজের সময় হয়ে আসছে দেখে পাশের একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করলাম (আলহাম্দুল্লিলাহ) । তার পর আবারও অপেক্ষা যে অপেক্ষার কোন শেষই নেই, প্রখর রোদ ভ্যাপসা গরম আর তীব্র দাবদাহে জীবন যেন নাকাল হয়ে পড়েছে। অস্থির হয়ে পড়েছেন আমার মত অপেক্ষারত মানুষগুলো। রেহায় পাচ্ছে না কোলের শিশুটিও কারন তার অপরাধ তার বাবা একজন সাধারন প্রবাসী যার সাথে সে বসবাষ করছে তাই তাকেউ সবার মত এখানে অপেক্ষা করতে হবে কর্তা ব্যক্তির সস্তুষ্টির জন্য । গরমের সাথে যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরম হাওয়া আর তাপ মাত্র অন্য দিনের চে একটু কম ৬০ বা ৬২ এর আশ পাশ হবে হয়ত। এই প্রচন্ড রোদ গরম আর তীব্র দাবদাহে মানুষ বের হতে পারছেনা বাড়ি থেকে,বাইরে বের হলে যেন আগুনের হল্কা গায়ে লাগছে। আর বাতাসেও বইছে প্রচন্ড গরম। সকাল ৭টা থেকেই বাড়ছে রোদের তীব্রতা, থাকছে সন্ধা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত। এর মধ্যেও খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি সেই সোনার হরীন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট টির জন্য । 

সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো হলো এমন সময় সেই সব মহান ব্যক্তিদের এক জন একটা জানালাটা একটু ফাঁক করে (যদি গরম বাতাস ডুকে পরে আবার) নাম ডাকছেন নতুন পাসপোর্ট নেয়ার জন্য । য়ারা দিচ্ছেন এদের বেশ কয়জন এখনকার স্থানীয় যার মধ্যে এক দুটি চেহারা হয়ত কোথাও দেখেছি কারন অনেক কাল এই ছোট শহরটিতে আর এই শহরটি আমার এখন অনেক প্রিয় তাই অনেকের সাথেই ভাল সম্পর্ক যাই হোক যা বলছিলাম যারা নতুন পাসপোর্ট দিচ্ছিল সেই সব চেহারার এক দু জনের একটু বর্ণনা না দিলেই না কারন যে জানালাটি একটু ফাঁক করে এই দেয়ার কর্মটি চলছিল তার নিচে একটু ছায়া ছিল আর এক দু জন ভাল পরিচিত ভাই বন্ধু বাতিজার জন্য সেই স্থানটিতে অপেক্ষাকরার সুযোগ হয়েছিল তাই আমি দেখতে পারছিলাম পাসপোর্টের ব্যাবহার কারীর নামটিও ঠিক মত পড়তে পারছেন না সেই সব কর্তা ব্যক্তিগন অনেক সময় ভুল নামও ডাকছেন এবং পাসপোর্টের অধীকারী কাছে এসে বলছে এটা এই নাম এই নাম না তখন উনারা বলছেন হা হা এটাই এটা আপনার । এদের এক জনকে দেখেছি আমি কোন হোটেলের ব্যায়ারার কাজে এক জন হয়ত খলিফা এক জন কোন দোকানের কর্ম চারী । যখন ব্যায়ারা আর খলিফা হয় দূতাবাসের কর্তাব্যক্তি তখন না হয় সুয্যি মামা বুঝিয়ে দিলো গরম কাহাকে বলে কত প্রকার ও কি কি তাহা উদাহরণসহ তাতে এমন কি ক্ষতি ।

মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের যন্ত্রনা এখানেই শেষ না মাত্রতো শুরু । দুপুর ঠিক দুপুর নয় প্রায় বিকেল ৩টা কি ৩টা ৩০মিনিট হবে আর একটা জানালা একটু ফাঁক করে এক জন কর্তা ব্যক্তি ডাক দিলেন নাম সানাউলালাহ লোকটা আমার পাশেই ছিল চেহারাটা আমার সামনেই এখনও ,দেখলাম নামটা শুনে ঘামঝড়া ক্লান্ত চেহারাটাতে কি যে এক শস্তির হাসি ফুটে উঠল তা আমি এই মুহুর্তে বর্ণনা করতে পারছিনা কিন্তু তার সেই হাসিটার আযু কাল ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড যখন কর্তা ব্যাক্তি বললেন আপনার মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট এখনও আসেনি পরে আবার যোগাযোগ করবেন এই কথাকি শুনার পর সানাউলালার চেহারার হাসি এক সেকেন্ডে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়ে কি যেন চিন্তাই মগ্ন হয়ে গেল । সানাউলালাহ সাথে কিছু কথা হল তা সবার সাথে শেয়ার করব তার আগে আর একটু কথা ,বলে নেই এই একটু ফাঁক করা জানালাটিকে নিয়ে । এখন দুটি জানালা সবার সম্মুখে খুলা একটি পরে আবার যোগাযোগ করুন অন্যটি নিয়েজান আপনার সোনার হরিন । যত টুকু আমার দৃষ্টিতে পরেছে যে সকল মুখ সব মুখ মলিন থেকে আরও মলিন হয়ে গেল এই ভেবে কোন জানালায় খুলে তার ভাগ্য কে জানে ।

সানাউলালার সাথে বসলাম কথা বলতে :
আমি : হা সানাউলালাহ ভাই মন খারাপ করবেন না সামনে আসলে আপনার টা ইনশাআল্লাহ চলে আসবে ।
সানাউলালাহ : ভাই চলেত আসবে আমিও জানি কিন্তু আজকের পোরা দিনটাতো আমার চলে গেল,একদিনের বেতন পাবনা তার উপর কেকেমসি থেকে এসেছি ৩০ রিয়েল গাড়িভাড়ায় আসছি আবার যেতে হবে ৩০ রিয়েলে এখানে দোকানে খেয়েছি প্রায় ৭ রিয়েল ভাই আবার আসব হবে ঠিক একই খরচ যদি উনারা সকাল বেলা বলে দিত তবে আমি গিয়ে হাজিরাটাতো দিতে পারতাম আমার বেতনই ভাই কত টাকা সাধারন লেবারের কাজ করি পরিবারে খাবার লোক ৫ জন আমি একা কামাই করি । মাসে বেতন পায় ৮০০ রিয়েল এটা থেকে নিজের খরচ বাদ দিয়ে বাকিটা দেশে পাঠাতে হয় তার পর যদি ভাই এমন খরচ আর তার পর কাজে যাই নি তাই একদিনের বেতনও পাবনা । ভাই মনটা খারাপ হবে না তো কি হবে ।আমি আরও কিছু কথা বলেছি কিছু কাজ করেছি উনার সাথে যাতে করে উনার মনটা একটু হলেও ভাল হয় যা সবার সাথে শেয়ার করার নয় ওটা আমার একান্ত নিজের ।

কিছু কথা :
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব বাংলাদেশিদের অন্যতম শ্রমবাজার। এক সময় দেশটিতে প্রতিবছর এক লাখ করে কর্মী যেতো। তবে বিগত বেশ কয়েক বছর এই শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া সৌদি সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ২০০৭ সাল থেকে আকামা পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ রেখেছে যা গত বছর কিছু সময়ের জন্য খুলা হলেও  সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাসের এবং দেশের প্রশাষন পর্যায়ের কিছু অসত অকর্মণ্য কর্মকর্তাদের জন্য তা আবারও মুখ থুবড়ে পরে আছে । এর মধ্যে নতুন সমস্যা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট না হলে সৌদিতে থাকাই সম্ভব না । যে প্রক্রিয়াটি সঠিক ভাবে সম্পন্ন করতে হলে অল্প সময়ের মধ্যে যে পরিমান জনবল,প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির প্রয়োজন তার অভাব, সব মিলে যেন এক জগাখিচুড়ি অবস্থার মধ্যে কাজ করছে সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস । 

অন্যদেশ যেখানে আরও ১/২ বছর পূর্বে সৌদি কতৃপক্ষের শর্ত মোতাবেগ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট করে নিয়েছে তবে আমরা এত পিছিয়ে কেন ? দেয়ালে পিঠ ঠেকা অবস্থায় আজ আমরা কেন ? একটি মুসলিম দেশ হিসাবে সৌদির সাথে যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক পূর্বে ছিল তা আজ একটা খারাপ কেন ? যে শ্রমবাজারে বাংলাদেশীদের একচেটিয়া অধিকার ছিল সেখানে আছ বাংলাদেশীদের নামও নেই কেন ? এই এত সব কেনর জন্য কি কোন দ্বায়ভার নেই আমাদের সরকারের এবং সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাসের ।

মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

আপনি কি মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক ছারা দেশে সর্বজন স্বীকৃত- গ্রহন যোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব ?

ভোট দিয়েছেন ২৭ জন

পুরোনো ফলাফল দেখুন

বিজ্ঞাপন