তারিখ : ৩০ নভেম্বর ২০২০, সোমবার
[ ] [ ] পাঠক সংখ্যা : 1231437


                   ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি উন্মক্ত সাইড

হাসপাতাল তো নয় লাশ ঘর ডাক্তার যেন কশাই-হাজী সানি

প্রকাশকাল : ১৫/৪/২০১৬ ৭:৩০:০০ প্রকাশক : হাজী সানি পাঠক সংখ্যা : 1356


No Image
Close
হাসপাতাল তো নয় লাশ ঘর ডাক্তার যেন কশাই-হাজী সানি
ভালুকার পৌর এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের তাহমিনা জেনারেল হাসপাতাল কবি জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতা আট বছর আগে একদিনের মত লাগছে আজ - শোনা গেল লাশকাটা ঘরে নিয়ে গেছে তারে; কাল রাতে – ফাল্গুনের রাতের আঁধারে যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ মরিবার হল তার সাধ।' জীবনানন্দের 'আট বছর আগে একদিন' কবিতার চরণগুলো নীরবে, নিভৃতে একাকী আউড়ানো শুরু করলে কখনো-সখনো কাঁটা দেয় গায়ে। ঘিরে ধরে অজানা ভয়। মানুষের মৃত্যু, মৃত্যু ভাবনার চমৎকার বিন্যাস এ কবিতা। আজ তাহমিনা জেনারেল হাসপাতালকে দেখে মনে হয় এই বুঝি কবি আবার বলে উঠবে "শোনা গেল তাহমিনা জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেছে তারে কোনদিন জাগিবে না আর জানিবার গাঢ় বেদনার অবিরাম অবিরাম ভার সহিবে না আর -শোনা গেল তাহমিনা জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেছে তারে ।"

হাসপাতাল বলতে আমাদের ধরনা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ ও সেবাকর্মীগণ প্রয়োজনীয় উপকরণের মাধ্যমে রোগীদের সেবা প্রদান করে আর ডাক্তার এক মহান পেশার অধিকারী,বর্তমান বিশ্বে দ্রুত প্রযুক্তির প্রসার ঘটায় নতুন অনেক পেশাই আসছে আমাদের সামনে নতুন এসব পেশার চাহিদাও কম নয় তবে সময়ের সাথে সাথে যত পরিবর্তনই আসুক না কেন, কিছু কিছু পেশা রয়েছে যেগুলোর সম্মান কখনই কমে না আর এমন একটি পেশার অধিকারী হচ্ছে এক জন ডাক্তার যাকে সৃষ্টিকর্তার পরই জীবন মৃত্যুর চালিকা শক্তি মনে করে সাধারন মানুষ,যাদের ধর্ম শুধুই সেবা।

তেমনি ভালুকার একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নাম তাহমিনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনিস্টিক সেন্টার যেখানে নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই প্রয়োজনীয় উপকরণ নেই মান সম্মত সেবা ও সেবাকর্মী যাদের ধর্ম এখানে শুধুই ব্যাবসা সেবা নামের শব্দটির যেন দূর দূরত্ব কোন দেখা মেলেনা মোটা অংকের অর্থ ছারা, গত এক যুগে এই হাসপাতালে একরে পর এক ভুল চিকিৎসায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়জনের যার মধ্যে বেশ কয়টির জন্য থানা কোট দেনদরবার এখনও চলছে ।কিন্তু প্রশাসনের সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে আজ মালিক পক্ষ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে আর রোগীর পরিবার হচ্ছে আজ নি:স্ব,সর্বশান্ত ।

২০০৫সালের ৫নভেম্বর উপজেলার বাটগাঁও গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থীনি দিলরুবাকে এপেডিসাইটিস এর অপারেশন করার সময় ওটিতেই মারাযায়। এ ঘটনায় দিলরুবার পিতা আব্দুল বাছেন সরকার বাদী হয়ে তাহমিনা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারের মালিক ডাক্তার মোশারফ, তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার মুক্তা ও তার ভাই মোতাহার হোসেন রিপনকে আসামী করে মামলা করেন মামলানং ১০২/০৮ (দায়রা জর্জ ময়মনসিংহ আদালতে)। মামলাটি অদ্যাবধি আদালতের বিচারধীন রয়েছে।

২২আগস্ট ২০১২ইং মঙ্গলবার তাহমিনা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে ডাক্তারের হাতে এক রোগিনীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয় সূত্র মতে ২১আগস্ট ২০১২ইং সোমবার রাতে ভালুকা উপজেলার চান্দরাটি গ্রামের জালাল উদ্দিনের স্ত্রী শামিমা আক্তারের (২২) প্রসব ব্যথা উঠলে তাহমিনা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসে। পরদিন ২২আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টায় হাসপাতালের মালিক ডাক্তার মোশারফ হোসেন রোগীর সিজারিং অপারেশন করে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করায়। ওইদিন সন্ধ্যায় অপারেশনের কিছুক্ষন পরই রোগী শামিমা আক্তারের মৃত্যূ হয় কিন্তু মালিক ডাক্তার মোশারফ হোসেন জানান প্রসূতি শামিমা আক্তার আশঙ্কাজনক তাই ময়মনসিংহ মেডিকেল হলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে বলে পরিবারের কাছে রেফারের কাগজ ধরিয়ে দেয় এবং একটি মাইক্রোবাসে রোগেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলে পথি মধ্যে রোগীর আত্মীয়স্বজন বুঝতে পারে প্রসূতির মৃত্যূ হয়ে গেছে।

হাসপাতালের মালিক ডাক্তার মোশারফ হোসেন জানান, ভালুকা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ও এ্যানেসথেসিয়া ডা.কায়কোবাদকে নিয়ে অপারেশন করা হয়েছে। কিন্তু রোগীর হঠাৎ রক্ত শূন্যতা দেখা দেয়ায় দুই ব্যাগ রক্ত দেয়া হয় তারপরও রোগীর পরিস্থিতি খারাপের পথে যাওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল হলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তার পরের খবর আমাদের জানা নেই। এ ব্যাপারেও মামলা হয় যা চলছে।

১৮জানুয়ারী ভালুকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সাবেক অফিস সহকারীর পূত্রবধূ সুমা আক্তার(২১)কে তাহমিনা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা করানোর পরথেকেই সুমা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে।

২১ জানুয়ারী ২০১৩ ইং রোববার রাতে তাহমিনা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসায় আরও এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয় সূত্র মতে ভালুকা উপজেলা ভান্ডাব গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী রেজিয়া খাতুন (৪০)কে অসম্পন্ন গর্ভপাতে রক্তক্ষরণে কারণে ২১ জানুয়ারী রোববার সকালে তাহমিনা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসলে হাসপাতালের মালিক ডা.মোশারফ হোসেন তাকে ভর্তি করেন। ডাক্তার রোগির বড় ভাই বাছেনকে জানায় রোগির রক্ত লাগবে এবং ডিএনসি করাতে হবে। তার পরামর্শক্রমে রেজিয়ার আত্নীয় স্বজনরা নিজেদের মধ্য থেকে রক্তদাতা ক্লিনিকে নিয়ে আসে। ডা.মোশারফ হোসেনের ওই রক্ত না নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে ২ব্যাগ রক্ত এনে রেজিয়াকে পোশ করেন। ৫হাজার ৫শত টাকা চুক্তি করে পরে ডা.মোশারফ হোসেন নিজেই রেজিয়ার ডিএনসি করেন। ডিএনসি করার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও রেজিয়ার কোন আত্নীয় স্বজনকে তার কাছে যেতে দেয় হয়নি। পরে রাতে তাহমিনা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের পক্ষ থেকে ভালূকা স্বাস্থ্য কমপ্লেস্কের সরকারী এ্যাম্বোলেন্স খবর দিয়ে মৃত রেজিয়াকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠনোর চেষ্টা করে। যা পরে প্রভাবশালীদের দেনদরবারে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রফা-দফা হয় ।

১৮ আগস্ট আপারেশন করতে গিয়ে ডাক্তারের হাতে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের বড় কাশর গ্রামের রতন মিয়ার অন্তঃস্বস্তা স্ত্রী শরীফা আক্তার ওরফে পারভীন(২০) এর মৃত্যু হয়। যা পরে প্রভাবশালীদের দেনদরবারে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রফা-দফা হয় ।

২৯ অক্টোবর বৃহস্পাতিবার ২০১৫ ইং  তাহমিনা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকের অবহেলায় রোগির মৃত্যু সূত্র মতে ,২৮ অক্টোবর বুধবার ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী খন্দকার পাড়া এলাকার নেছার উদ্দিনের  অন্তঃস্বত্তা স্ত্রী তানজিনা আক্তার (২০) এর প্রসব ব্যাথা উঠলে দুপুরে ওই হাসপাতালে নিয়ে আসে। এসময় হাসপাতাল কতৃপক্ষ ওই রুগীকে তারাতারি সিজার অপরেশন করে বাচ্চা প্রসব করতে হবে বলে রুগীর স্বজনদের পরামর্শ দেয়। পরে ১৮ হাজার টাকা চুক্তিতে হাসপাতালের ডাক্তার মোশারফ হোসেন তার সহ কর্মীদের নিয়ে ঘটনার ১ ঘন্টার মধ্যে অপরেশন করে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করান। অপরেশন শেষে সেলাই ও বেন্ডিস করে ওটি থেকে ডাক্তার চলে যান। পরে রুগীকে সিটে দেওয়ার কিছুক্ষন পর থেকেই রুগীর রক্তক্ষর শুরু হয়। এসময় তার স্বজনরা বিষয়টি হাসপাতাল কতৃপক্ষকে অবহিত করলেও তারা এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রুগীর অবস্থা আশংকা জনক হয়ে উঠলে হাসপাতাল কতৃপক্ষ তরিঘরি করে ২৯ অক্টোবর বৃহস্পিতিবার সকালে রুগীকে অন্যত্র পেরনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ওই প্রসুতি মায়ের মৃত্যু হয়। এঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোতাহার হেসেন রিপনকে আটক করে পুলিশ ।

ভালুকা পৌর এলাকার নাকের ডগায় অবস্থিত এ হাসপাতালের দিকে স্থানীয় লোকের অভিযোগেন যেন অন্ত নেই। এজাতীয় ঘটনা এই হাসপাতালে অহরহ ঘটে থাকে এবং হাসপাতাল কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে ।মালিক ডা.মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে এলাকবাসীর হাজারে অভিযোগ,অপকর্মের জন্য তিনি সরকারী চাকরি হারান। এ ছাড়াও এ ক্লিনিকে অপারেশ করতে এসে এপর্যন্ত বেশ কয়েকজন রোগি মারা গেছে। পরে নিহত রোগিদের অভিবাবকদেরকে ম্যানেজ করে প্রভাবশালীদের দেনদরবারে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রফা-দফা করে পার পেয়ে যায়। ডা.মোশারফের পরিবার নিন্মবৃত্ত পরিবারের সন্তান হওয়া সত্বেও এ ক্লিনিকটি করে বর্তমানে ঢাকায় উত্তরা বহুতল বিশিষ্ট বাড়ি,ভালুকা সদরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কয়েক কোটি টাকা মূল্যে জমি সহ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।

তাহমিনা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের জন্য রয়েছে ভালূকা উপজেলা সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলায় অসংখ্য দালাল। বিশেষ করে ভালুকা হাসপাতালে রয়েছে একাধিক নার্স সহ দলালের বিশেষ টিম। ডাঃ মোশারফ হোসেন ভালুকা উপজেলার ৩নং ভরাডোবা ইউনিয়নের ডাক্তার হিসেবে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।ডাক্তার মোশারফ ও তার ভাই রিপন তাহমিনা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের ব্যবসা করে কয়েক বছরে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছে।

এ সব বিষয়ে ডাক্তার মোশারফ হোসেনের মতামত জানান জন্য তার ব্যাক্তিগত মোবাইল নং ০১৭১১৮২৮৭৬৫ নাম্বারে একাধিকবার ফোন করেও ০১ নভেম্বর তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শুরুটা করেছিলাম কবি জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতা আর শেষটাও করতে চাচ্ছি কবি জীবনানন্দ দাশের আর একটি কালজয়ী কবিতার অংশ পড়ে জীবনানন্দ লিখেছিলেন, 'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজতে যাই না আমি।' আজ এত বছর পর আমার মনে হচ্ছে কবির কবিতাটা হয়ে গেছে "তাহমিনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলাম আমি , তাই পৃথিবীর রূপ দেখিবার ভাগ্য হলনা আমার ।

এই মরণ খেলা বন্ধে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছে ভালুকার নিরিহ জন সাধারণ ।

মন্তব্য


সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

আপনি কি মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক ছারা দেশে সর্বজন স্বীকৃত- গ্রহন যোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব ?

ভোট দিয়েছেন ২৭ জন

পুরোনো ফলাফল দেখুন

বিজ্ঞাপন