তারিখ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, শনিবার
[ ] [ ] পাঠক সংখ্যা : 1234789


                   ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি উন্মক্ত সাইড

ভালুকায় মাদরাসা শিক্ষককে আটকের ঘটনায় পুলিশসহ আহত ৮

প্রকাশকাল : ২৫/৪/২০১৬ ১:১০:০০ প্রকাশক : ভালুকা ডট কম পাঠক সংখ্যা : 1722


No Image
Close
ভালুকায় মাদরাসা শিক্ষককে আটকের ঘটনায় পুলিশসহ আহত ৮
ভালুকায় মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান (৫০) নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে হাতকড়া পড়িয়ে সাদা পোষাকদারী পুলিশ থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জনতার প্রহারে মডেল থানা পুলিশ (কনষ্টেবল নম্বর-১০৫৪) রঞ্জু (৩০) গুরুতর আহত হয়েছেন। এসময় এএসআই আবুল মুনসুর কৌশলে সটকে গিয়ে ঘটনাটি থানায় জানালে ওসি (তদন্ত) সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আহত কনস্টেবলকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে অন্তত ৫/৬ ব্যবসায়ী আহত হন। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার রাতে উপজেলার গোয়ারী মুক্তির বাজার এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ৮ টার দিকে গোয়ারী আমুনাটি পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিম ফকিরের ছেলে ভালুকা খারুয়ালী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান গোয়ারী  মুক্তির বাজারে আলফাজ ডাক্তারের ঔষধের দোকানে বসে কথা বলছিলেন। এসময় সাদা পোষাকে ভালুকা মডেল থানার এএসআই আবুল মুনসুর কনষ্টেবল রঞ্জুকে নিয়ে সেখানে যায় এবং মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানের চেয়ারের নীচ থেকে একটি পুটলা তুলে তাতে গাঁজা রয়েছে বলে তাকে অভিযুক্ত করে হাতকড়া লাগিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু করেন। ওই ওয়াডের্র সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার ফিরুজা খাতুন ও সাদেক হোসেন শোভা মেম্বারসহ এলাকার লোকজন সিদ্দিককে না নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন এবং সে এলাকায় ভাল লোক বলে সুপারিশ করেন । কিন্তু তারপরও পুলিশ সিদ্দিকুর রহমানকে সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় উঠিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে এলাকাবাসী এএসআই মুনসুর ও রঞ্জুর উপর চড়াও হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে এএসআই মুনসুর সটকে গিয়ে থানায় খবর দেয়। পরে ভালুকা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হযরত আলী অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে কনস্টেবল রঞ্জুকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ভালুকা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পাঠান এবং স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত মেম্বার সাদেক হোসেন শোভাকে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে পুলিশ এলোপাতারি লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ৫/৬ দোকানদার আহত হন।

ওই বাজারের দোকানীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের দোকানপাটে হামলা চালিয়ে লোকজনকে ব্যাপক মারধোর করেছে। একাধিক সূত্রে জানা যায়, ভালুকা মডেল থানার কতিপয় অসাধূ পুলিশ কর্মকর্তা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরণের নাটকিয় ঘটনার মাধ্যমে নিরিহ মানুষকে মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান ভালুকা ডট কম কে জানান, মাগরিবের নামাজের পর আলফাজ ডাক্তারের ঔষুধের দোকানে বসে চা খাওয়ার সময় সাদা পোষাকে পুলিশ আমাকে অহেতুক মাদক বিক্রির অভিযোগে হাতকরা পড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় দোকানদারগন প্রতিবাদ করেন এবং পরে পুলিশের সাথে এলাকাবাসির অপ্রিতকর ঘটনা ঘটে।

ভালুকা খারুয়ালী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান ভালুকা ডট কম কে জানান, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান একজন আদর্শ শিক্ষক। গাঁজাতো দুরের কথা তিনি ধুমপানও করেনা। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক দাবি জানান।

ভালুকা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো: হযরত আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভালুকা ডট কম কে বলেন, নামের মিস্টেকের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা চলছে।



মন্তব্য


বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

আপনি কি মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক ছারা দেশে সর্বজন স্বীকৃত- গ্রহন যোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব ?

ভোট দিয়েছেন ২৭ জন

পুরোনো ফলাফল দেখুন

বিজ্ঞাপন