তারিখ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, শনিবার
[ ] [ ] পাঠক সংখ্যা : 1234755


                   ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি উন্মক্ত সাইড

ভালুকা আসনের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা

প্রকাশকাল : ২৯/৯/২০১৭ ১১:৩০:০০ প্রকাশক : ভালুকা ডট কম পাঠক সংখ্যা : 1163


No Image
Close

ভালুকা আসনের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারিত না হলেও ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও লবিং গ্রুপিং শুরু হয়ে গেছে। দলীয় নেতাকর্মীসহ সমর্থকদের কাছে টানার পাশাপাশি নিজেরদের পক্ষে সমর্থন আদায়ে এখন থেকেই নানা কৌশলে কাজ করে যাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এখানে মূলত; আ’লীগ ও বিএনপির মাধ্যেই লড়াই হয়। এবারো তাই হবে।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে তেমন কোনো ঝামেলা নেই। তবে আ’লীগের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে এখনই তোলপাড় শুরু হয়েছে। কে হবে নৌকার কান্ডারী তা নিয়ে শুধু ভোটার নয়, রাজনৈতিক মহলেও ঝড় বইছে। আগামী নির্বাচনে নতুন মুখ আসতে পারে বলে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও বেড়ে গেছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ওপরই নির্ভর করবে আসনটি আ’লীগের হাতে থাকবে নাকি বিএনপির দখলে চলে যাবে? এনিয়ে হিসেব নিকাশ চলছে দু’দলের মাঝেই।

এ আসনে ১৯৭০ সালে অ্যাডভোকেট মোস্তফা এম এ মতিন এমএনএ এবং ১৯৭৩ সালে জাসদের আফসার উদ্দিন আহমেদকে প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে আ’লীগের এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে জাসদের আফসার উদ্দিন আহমেদের চেয়ে মাত্র ১৮ ভোট বেশি পেয়ে মুসলিম লীগের আফতাব উদ্দিন চৌধুরী (চাঁন মিয়া) এমপি হন। ১৯৮৬ সালে তারই পুত্র আমানউল্যাহ চেীধুরী মুসলিম লীগের হয়ে আসনটি ধরে রাখেন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মেজর (অব.) আব্দুল হামিদ, ১৯৯১ সালে মুসলিম লীগ ছেড়ে বিএনপির হয়ে আমানউল্যাহ চৌধুরী মাত্র ৬১২ ভোটের ব্যবধানে ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে তিনি তৃতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে অধ্যাপক ডা. এম আমানউল্ল্যাহ আ’লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে টানা চারবার বিজয় লাভ করেন। এ আসনে আ’লীগ যতবার বিজয়ী হয়েছে, ততবারই বিপুল ভোটে ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীকে পরাজিত করেছে। এ কারণে আ’লীগ আসনটিকে তাদের দূর্গ বলে দাবি করে।

এ আসনে টানা চারবার নির্বাচিত এমপি, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এবং সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপমন্ত্রী হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা: এম আমানউল্ল্যাহ আগামী নির্বাচনেও আ’লীগের মনোনয়ন চাইবেন। তিনি ছাড়াও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন আরো অন্তত; এগারজন।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা কুড়ি বছর ধরে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। দল তাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. কাজিমউদ্দিন আহমেদ ধনু খুবই জনপ্রিয়। তার বাবা আফসার উদ্দিন মুক্তিযুদ্ধে নিজস্ব ‘আফসার বাহিনী’ গঠন করে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে পিতা-পুত্রের ইমেজ নিয়ে আসনটি ধরে রাখতে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদী।

আ’লীগের মনোনয়ন পেতে চান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মো: রফিকুল ইসলাম পিন্টু। তিনি কারা নির্যাতিত নেতা এবং সর্বোচ্চ ভোটে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

আ’লীগের আরো মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের নেতা অ্যাডভোকেট আশরাফুল হক জর্জ, ভাষা সৈনিক সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মোস্তফা এম এ মতিনের কন্যা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মনিরা সুলতানা মনি, পাপুয়া নিউগিনি শাখা আ’লীগের সভাপতি ধনকুবের হিসেবে খ্যাত মো. আব্দুল ওয়াহেদ (এম এ ওয়াহেদ), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কে বি এম হাদিউজ্জামান সেলিম, ময়মনসিংহ জেলা আ’লীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ, আনন্দ মোহন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কানাডা আ’লীগের আহবায়ক উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ড. মো. শফিউল আজম খোকা এবং কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আসাদুজ্জামান বিপ্লব।

২০০৮ সালের নির্বাচনে ‘আওয়ামী জোয়ার’র মধ্যেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ৬৩ হাজার ৩৭৬ ভোট পেয়েছিলেন দলীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। তিনি নানা প্রতিকূলতার মাঝে দলীয় কর্মসুচী পালন করতে গিয়ে বারবার কারাভোগ করেছেন। ভালুকায় বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছেন তিনিই। দলীয় নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মামলা পরিচালনার পাশাপাশি তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। জনদরদি ও ত্যাগী নেতা হিসেবে তিনি এবারো বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।

এছাড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফোরামের সাবেক মহাসচিব মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন। উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী তার সাথে রয়েছেন। ব্যাপক দান-খয়রাত করেন বলে তার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আজিজ টুটুলও মনোনয়ন পেতে চান। জিয়া বিগ্রেড কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো: আবুল হোসেনও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হাইকমান্ড ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পর্যন্ত ব্যাপক লবিং করছেন বলে শোনা যায়।এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল কাইয়ূমের নাম শুনা যাচ্ছে ।

একটি পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়ন  নিয়ে গঠিত এ আসনে দুই লাখ ৮৮ হাজার ৭১৪ ভোটারের মধ্যে এক লাখ ৪৫ হাজার ১৭জন পুরুষ ও এক লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৭ জন মহিলা ভোটার রয়েছেন। #



মন্তব্য


বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

অনলাইন জরিপ

আপনি কি মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক ছারা দেশে সর্বজন স্বীকৃত- গ্রহন যোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব ?

ভোট দিয়েছেন ২৭ জন

পুরোনো ফলাফল দেখুন

বিজ্ঞাপন